বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা ॥
মধ্যপ্রাচ্যের বারুদঠাসা পরিস্থিতিতে অবশেষে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরান। পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতায় অর্জিত এই সমঝোতাকে নিজেদের ‘বিজয়’ হিসেবে দেখছে তেহরান।
ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতির মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক সমঝোতার কথা জানিয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘মেহের নিউজ এজেন্সি’তে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পর দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি স্বয়ং এই চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন, যার পরপরই এটি কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, একটি স্থায়ী ও টেকসই শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে পরবর্তী ধাপের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান ও শর্ত
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার ভিত্তিতে তিনি ইরানের ওপর দুই সপ্তাহের জন্য সকল প্রকার বোমাবর্ষণ ও সামরিক হামলা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন।
তবে এই যুদ্ধবিরতির পেছনে ওয়াশিংটন একটি প্রধান শর্ত জুড়ে দিয়েছে—বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে। ট্রাম্পের মতে, ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাব আলোচনার একটি কার্যকর ভিত্তি তৈরি করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে উভয় দেশ এখন অনেকটা পথ এগিয়ে গেছে।
ইসরায়েলের সম্মতি ও বর্তমান পরিস্থিতি
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলও এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র ইসরায়েলি গণমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-কে জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার নিশ্চয়তা দিলেই এই যুদ্ধবিরতি পূর্ণরূপে কার্যকর হবে।
তবে মাঠপর্যায়ে কিছুটা ধোঁয়াশা এখনো রয়ে গেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গুলি বন্ধের কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা পৌঁছায়নি। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায় থেকে এখনো কোনো যৌথ চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।
বিশ্লেষকদের মত
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতায় পৌঁছানোর পেছনে ইরানের সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এখন সবার নজর ইসলামাবাদের পরবর্তী বৈঠকের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ শান্তির রূপরেখা।
সূত্র: আল জাজিরা, মেহের নিউজ, সিএনএন